বাংলাদেশকে ট্যাক্স ফ্রি বাণিজ্যের সুযোগ দেবে জিবুতি

বিনিয়োগ সম্ভাবনা যাচাইয়ে জানুয়ারিতে সফরে যাবে প্রতিনিধি দল

আফ্রিকার জিবুতি প্রজাতন্ত্রে বিনিয়োগ করলে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা ট্যাক্স ফ্রি সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত ইসে আবদিল্লাহি আসসোয়েহ।

আফ্রিকার জিবুতি প্রজাতন্ত্রে বিনিয়োগ করলে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা ট্যাক্স ফ্রি সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত ইসে আবদিল্লাহি আসসোয়েহ। গতকাল রাজধানীর ফার্স্ট হোটেলে জিবুতিতে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রদূত জানান, আমদানিনির্ভর রাষ্ট্র হওয়ায় জিবুতিতে বাংলাদেশের বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনা যাচাইয়ে আগামী জানুয়ারিতে বাংলাদেশ থেকে একটি প্রতিনিধি দল দেশটি সফর করবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সভাপতি ও জিবুতি সফরের সংগঠক আবদুল হক। তিনি বলেন, ‘জিবুতি তাদের বাণিজ্য কাঠামোকে দুবাই ও সিঙ্গাপুরের মডেলে গড়ে তুলছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর থাকায় দেশটিতে বিনিয়োগের সুযোগ অনেক। দেশটিতে ফার্মাসিউটিক্যাল, পাট, নিটওয়্যার, সিরামিক, হালকা প্রকৌশল পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, চামড়াসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তাদের বন্দর ব্যবহারের সুবিধাও ডিউটি ফ্রি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি আফ্রিকার দেশ জিবুতিতে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। রফতানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে আমাদের বিনিয়োগকারীরা জিবুতির অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে করছাড়ের সুবিধা ও উৎপাদনের অনুকূল পরিবেশ কাজে লাগাতে পারেন।’

রাষ্ট্রদূত ইসে আবদিল্লাহি আসসোয়েহ বলেন, ‘তরুণ জনসংখ্যা, বৃহৎ বাজার ও প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে আফ্রিকা বিশ্ববাজারে আকর্ষণীয় অঞ্চল হয়ে উঠেছে। তবে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে অনেক বিনিয়োগকারী দ্বিধায় থাকেন। এখানেই জিবুতি ব্যতিক্রম—দেশটি আফ্রিকার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও বিনিয়োগবান্ধব রাষ্ট্রগুলোর একটি।’

রাষ্ট্রদূত আরো জানান, জিবুতি বাবেল মান্দেব প্রণালির কৌশলগত স্থানে অবস্থিত। এ পথে বছরে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য পরিবহন হয়। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, কোরিয়া, ভারতসহ বহু দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক উপস্থিতি থাকায় দেশটিতে বিনিয়োগ নিরাপদ। জিবুতির ফ্রি জোনে জিরো ট্যাক্সে উৎপাদন বা পুনঃরফতানি করা যায়। দ্য কমন মার্কেট ফর ইস্টার্ন অ্যান্ড সাউদার্ন আফ্রিকার (কমেসা) ৬০০ মিলিয়ন মানুষের বাজারে রফতানিতেও শূন্য শুল্ক সুবিধা পাওয়া যায়।

বিদেশী বিনিয়োগকারীদের স্থানীয় নাগরিকের সমান অধিকার দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জিবুতিতে জমি কেনা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ঋণ গ্রহণসহ সবই আইনগতভাবে সম্ভব। ১৫টি সাবমেরিন কেবল দিয়ে যুক্ত থাকায় দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সুবিধা পাওয়া যায়। কৃষি ও উৎপাদনে স্বনির্ভর না হওয়ায় জিবুতি ব্যাপক পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটিতে বাংলাদেশী পণ্যের বড় বাজার রয়েছে।’

আগামী জানুয়ারিতে জিবুতিতে বাংলাদেশী প্রতিনিধি দলের সফর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জানুয়ারিতে একটি উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশী প্রতিনিধি দল সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। আমি পুরো সফরে তাদের সঙ্গে থাকব, সব সরকারি দরজা বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। নিজ চোখে জিবুতির অবকাঠামো, বন্দর, ফ্রি জোন, ব্যবসার পরিবেশ দেখে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে এটি বাংলাদেশী উদ্যোক্তাদের জন্য অসাধারণ সুযোগ।’

এ সময় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত, টেক্সটাইল, ইলেকট্রনিকস, ওষুধ ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প খাতের ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও